১১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খাল ভরাটের আশঙ্কায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা

  • আপডেট: ০৭:০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • 12

নিজস্ব প্রতিবেদক:চৌমুহনী চৌরাস্তা থেকে লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক পর্যন্ত ফোর লেন সড়ক নির্মাণ কাজ বর্তমানে জোরেশোরে এগিয়ে চলছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজার এলাকায় দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ। বিশেষ করে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফোর লেন প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সম্প্রতি চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজারে বুড়া হুজুর জামে মসজিদের উত্তর পাশে থাকা কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে এসব দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযানে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদ ও মাদ্রাসা দক্ষিণ পাশে অবস্থান করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পানি উন্নয়ন বোর্ডের খালের উপর দিয়ে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে পুরো পূর্বাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, বছরের পর বছর ধরে এই খাল দিয়েই আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয়ে নিচু এলাকায় নেমে যায়। বর্ষা মৌসুমে এই খালই পূর্ব অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ফলে খালটি ভরাট বা সংকুচিত করা হলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, রাস্তা তলিয়ে যাওয়া এবং বসতবাড়িতে পানি ঢোকার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, উন্নয়ন কাজকে তারা স্বাগত জানান। তবে এমন কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত নয়, যাতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। তারা বলেন, “রাস্তা উন্নয়ন অবশ্যই দরকার, কিন্তু পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে উন্নয়ন করলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। একটু ভারী বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা পানির নিচে চলে যেতে পারে।”
একাধিক সচেতন নাগরিক অভিযোগ করে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে এলাকাবাসীর মতামত এবং পরিবেশগত দিকগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে পানি নিষ্কাশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হবে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়দের দাবি, খাল ভরাট না করে বিকল্প পরিকল্পনার মাধ্যমে ফোর লেন সড়ক নির্মাণ করা হোক।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি পরিবেশ, পানি প্রবাহ ও জনস্বার্থের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে এবং এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না যাতে সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুনভাবে জাগরণ সৃষ্টি করেছি : পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খাল ভরাটের আশঙ্কায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা

আপডেট: ০৭:০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:চৌমুহনী চৌরাস্তা থেকে লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক পর্যন্ত ফোর লেন সড়ক নির্মাণ কাজ বর্তমানে জোরেশোরে এগিয়ে চলছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজার এলাকায় দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ। বিশেষ করে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফোর লেন প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সম্প্রতি চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজারে বুড়া হুজুর জামে মসজিদের উত্তর পাশে থাকা কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে এসব দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযানে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, মসজিদ ও মাদ্রাসা দক্ষিণ পাশে অবস্থান করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পানি উন্নয়ন বোর্ডের খালের উপর দিয়ে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে পুরো পূর্বাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্যমতে, বছরের পর বছর ধরে এই খাল দিয়েই আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয়ে নিচু এলাকায় নেমে যায়। বর্ষা মৌসুমে এই খালই পূর্ব অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ফলে খালটি ভরাট বা সংকুচিত করা হলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, রাস্তা তলিয়ে যাওয়া এবং বসতবাড়িতে পানি ঢোকার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, উন্নয়ন কাজকে তারা স্বাগত জানান। তবে এমন কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত নয়, যাতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। তারা বলেন, “রাস্তা উন্নয়ন অবশ্যই দরকার, কিন্তু পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে উন্নয়ন করলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। একটু ভারী বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা পানির নিচে চলে যেতে পারে।”
একাধিক সচেতন নাগরিক অভিযোগ করে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে এলাকাবাসীর মতামত এবং পরিবেশগত দিকগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে পানি নিষ্কাশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হবে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়দের দাবি, খাল ভরাট না করে বিকল্প পরিকল্পনার মাধ্যমে ফোর লেন সড়ক নির্মাণ করা হোক।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি পরিবেশ, পানি প্রবাহ ও জনস্বার্থের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে এবং এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না যাতে সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।