লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে কুলছুমা আক্তার কল্পনা (৩০) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ করেছে তার পরিবারের লোকজন। শ্বশুর-শ্বাশুড়িসহ ওই পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন তার বড় ভাই আলমগীর হোসেন।
ঘটনার পর থেকে কল্পনার শ্বশুর বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।
বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের পূর্ব সৈয়দপুর গ্রামের মনু মিয়ার বাড়ি থেকে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে।
সে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের শহীদপুর গ্রামের মনু মিয়ার বাড়ির ওমান প্রবাসী মো. রোমনের স্ত্রী।
৮ দিন আগে তার কোল জুড়ে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। অবুঝ নবজাতক তার মাকে হারিয়েছে। তার আরও ২টি ছেলে সন্তান রয়েছে। এরমধ্যে একজনের বয়স ১২ বছর ও অন্যজনের বয়স ৩ বছর।
কল্পনার ভাই আলমগীর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ৮ দিন আগে কল্পনা কন্যা সন্তান হয়েছে। সেজন্য মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বাড়ি থেকে লোকজন তাকে দেখতে যায়। এসময় মিষ্টিসহ বিভিন্ন জিনিপত্র নিয়েছে। সেগুলো কম হওয়ায় কল্পনার শ্বশুর-শ্বাশুড়িরা তাকে বিভিন্ন কথা শোনায়। ধারণা করা হচ্ছে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাতেই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহ ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমাদের বাড়ির লোকজন গিয়ে তার মরদেহ ঘরে পড়ে থাকতে দেখে।
আলমগীর আরও বলেন, ১৬-১৭ বছর আগে পারিবারিকভাবে কল্পনা ও রোমানের বিয়ে হয়। তার স্বামী ওমান থাকে। সেই সুযোগে শ্বশুর খোরশেদ আলম ও শ্বাশুড়িসহ তাকে নানানভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন করে আসতো। তারাই তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
পলাতক থাকায় নিহতের শ্বশুর খোরশেদসহ পরিবারের কারো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজীম বলেন, শুনেছি গৃহবধূ ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে পুলিশ তাকে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পায়নি। ঘটনাটি তদন্ত চলছে। তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনও আত্মগোপনে রয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।


















