০৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সন্ত্রাসীদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ব্যবসায়ী পরিবার, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

  • আপডেট: ০৪:১৬:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • 7

নিজস্ব প্রতিবেদক:
লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের মান্দারী এলাকার একটি পরিবার সন্ত্রাসীদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। দফায় দফায় ওই পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা ও অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ইকবাল হোসেন নামে ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য মান্দারী বাজারে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তোলেন। ঘটনার প্রতিকার ও বিচার দাবি জানান তিনি।

ইকবাল জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মান্দারী গ্রামের জগার বাপের বাড়ির মো. মহসিনের ছেলে। তিনি পেশায় ঠিকাদার ও ঢাকায় থাই গ্লাসের ব্যবসায়ী।

অভিযুক্তরা হলেন, একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর ও মোহন এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জুয়েল।

ইকবাল অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে তিনি বাড়ি নির্মাণের সময় স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় ওই বছরের ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মোহনের নেতৃত্বে কৌশলে নোয়াখালীর সুধারাম থানাধীন উদয় সাধুরহাট এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জুয়েলের নেতৃত্বে আটক ও নির্যাতন করে পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে বিকাশের মাধ্যমে এক লাখ ও নগদ এক লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। ওই এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি টের অপহরণকারীরা তাকে নির্জন স্থানে হাত-পা বেঁধে সটকে পড়ে। স্থানীয়দের সহযোগীতায় তিনি উদ্ধার হয়ে সেখান থেকে লক্ষ্মীপুরে আসেন৷ এ ঘটনায় সুধারাম থানায় মামলা করেন ইকবাল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. অহিদ মুরাদ ওই বছরের ১ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দেন। এতে জুয়েলকে প্রধান করে মোহন, ইউসুফ, মমিন উল্যাহ, সজিব ও ফাহাদের নামে তদন্ত প্রতিবেদন দেন৷ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়৷

এদিকে একই বাহিনীর সদস্যরা গত ৭ জুন ইকবালের ছোট ভাই শাকিলকে অপহরণের চেষ্টা করে বর্থ হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন সন্ত্রাসীরা তার উপর হামলা করে।

এ ঘটনায় তার বাবা মহসিন বাদি হয়ে জুয়েল, রাফি, রাকিব, মনির, ইসমাইল, জাহাঙ্গীর, রাজুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের নামে চন্দ্রগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন৷ মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। মামলা করায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বাহিনীটি।

গত ২ জুলাই দুপুরে রাসেল নামে ওই চক্রের এক সদস্য ইকবালের বাবা মহসিনকে কৌশলে বাড়ি থেকে জেলা শহরের স্টেডিয়াম এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকিয়ে জাহাঙ্গীর, মনির ও রাসলের নেতৃত্বে ১০-১২ জন লোক তাকে নির্যাতন করে। তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা কেড়ে নেয়। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পাসওয়ার্ডও নিয়ে যায়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ মহসিনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয় মহসিন।

সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন বলেন, মহসিন নামে এক ব্যক্তিকে স্টেডিয়াম এলাকায় নির্যাতনের অভিযোগ পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিই।

সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল হোসেন বলেন, বার বার সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক আমি এবং আমার পরিবার অপহরণ, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছি। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করে আসছে। এতে আমরা পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। তাই প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তদের বিচার দাবি করছি।

Tag :

ইনসাবের লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন সভাপতি আব্দুল মাহবুদ, সম্পাদক নুর আলম

সন্ত্রাসীদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ব্যবসায়ী পরিবার, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: ০৪:১৬:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের মান্দারী এলাকার একটি পরিবার সন্ত্রাসীদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। দফায় দফায় ওই পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা ও অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ইকবাল হোসেন নামে ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য মান্দারী বাজারে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তোলেন। ঘটনার প্রতিকার ও বিচার দাবি জানান তিনি।

ইকবাল জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মান্দারী গ্রামের জগার বাপের বাড়ির মো. মহসিনের ছেলে। তিনি পেশায় ঠিকাদার ও ঢাকায় থাই গ্লাসের ব্যবসায়ী।

অভিযুক্তরা হলেন, একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর ও মোহন এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জুয়েল।

ইকবাল অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে তিনি বাড়ি নির্মাণের সময় স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় ওই বছরের ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মোহনের নেতৃত্বে কৌশলে নোয়াখালীর সুধারাম থানাধীন উদয় সাধুরহাট এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জুয়েলের নেতৃত্বে আটক ও নির্যাতন করে পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে বিকাশের মাধ্যমে এক লাখ ও নগদ এক লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। ওই এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি টের অপহরণকারীরা তাকে নির্জন স্থানে হাত-পা বেঁধে সটকে পড়ে। স্থানীয়দের সহযোগীতায় তিনি উদ্ধার হয়ে সেখান থেকে লক্ষ্মীপুরে আসেন৷ এ ঘটনায় সুধারাম থানায় মামলা করেন ইকবাল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. অহিদ মুরাদ ওই বছরের ১ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দেন। এতে জুয়েলকে প্রধান করে মোহন, ইউসুফ, মমিন উল্যাহ, সজিব ও ফাহাদের নামে তদন্ত প্রতিবেদন দেন৷ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়৷

এদিকে একই বাহিনীর সদস্যরা গত ৭ জুন ইকবালের ছোট ভাই শাকিলকে অপহরণের চেষ্টা করে বর্থ হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন সন্ত্রাসীরা তার উপর হামলা করে।

এ ঘটনায় তার বাবা মহসিন বাদি হয়ে জুয়েল, রাফি, রাকিব, মনির, ইসমাইল, জাহাঙ্গীর, রাজুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের নামে চন্দ্রগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন৷ মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। মামলা করায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বাহিনীটি।

গত ২ জুলাই দুপুরে রাসেল নামে ওই চক্রের এক সদস্য ইকবালের বাবা মহসিনকে কৌশলে বাড়ি থেকে জেলা শহরের স্টেডিয়াম এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকিয়ে জাহাঙ্গীর, মনির ও রাসলের নেতৃত্বে ১০-১২ জন লোক তাকে নির্যাতন করে। তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা কেড়ে নেয়। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পাসওয়ার্ডও নিয়ে যায়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ মহসিনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয় মহসিন।

সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন বলেন, মহসিন নামে এক ব্যক্তিকে স্টেডিয়াম এলাকায় নির্যাতনের অভিযোগ পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিই।

সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল হোসেন বলেন, বার বার সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক আমি এবং আমার পরিবার অপহরণ, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছি। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করে আসছে। এতে আমরা পুরো পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। তাই প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তদের বিচার দাবি করছি।