০৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচনে ২৯ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ

  • আপডেট: ০২:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 5

বিজয়ের আলো ডেস্ক :
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন বোর্ডের পক্ষ থেকে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় চেয়ারম্যান পদে সমীর চন্দ্র কর্মকার ও পরেশ কর্মকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে অপূর্ব লাল রায় (তপু), ভাইস চেয়ারম্যান পদে রঘুনাথ কর ও জুলাশ কুরী, জেনারেল সেক্রেটারি পদে পলাশ চন্দ্র কুরী এবং সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে লিটন কর্মকার ও অজয় রায় রয়েছেন।
জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিপ্লব দেবনাথ, সবুজ বিশ্বাস ও অমিত নন্দী। ট্রেজারার পদে রয়েছেন হৃদয় পাল।
এছাড়া এক্সিকিউটিভ মেম্বার পদে কনক দত্ত, বিদ্যুৎ চন্দ্র দেবনাথ, দিপ্ত দেবনাথ, প্রান্ত দাস, প্রানজিত চন্দ্র দাস, সহদেব চন্দ্র কুরী, লিটন চন্দ্র দাস, দিপঙ্কর মজুমদার, পলাশ চন্দ্র কর, তপন চন্দ্র সরকার, অনুপ কুমার বায়, কার্তিক দেবনাথ, সুজন চন্দ্র, সুমন দেবনাথ, পিযুষ কর্মকার, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ও সুব চন্দ্র সাহা রয়েছেন।
চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে ২ জন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন, জেনারেল সেক্রেটারি পদে ১ জন, সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে ২ জন, জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে ৩ জন, ট্রেজারার পদে ১ জন এবং এক্সিকিউটিভ মেম্বার পদে ১৭ জন প্রার্থী রয়েছেন।
আপীল বোর্ডে অভিযোগ, দুই পক্ষের আবেদনই খারিজ
নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের মধ্যে দাখিল করা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আপীল বোর্ডও সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আপীল বোর্ডের সিদ্ধান্তে চেয়ারম্যান প্রার্থী সমীর চন্দ্র কর্মকারের করা পরেশ কর্মকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং পরেশ কর্মকারের করা সমীর কর্মকার ও সহদেব চন্দ্র কুরীর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ—সবগুলোই খারিজ করা হয়েছে।
আপীল বোর্ডের নথি অনুযায়ী, সমীর চন্দ্র কর্মকার গত ২৭ আগস্ট পরেশ কর্মকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের ওপর ১ সেপ্টেম্বর বাজুস লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার কার্যালয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আপীল বোর্ড সিদ্ধান্ত দেয়।
আপীল বোর্ডের সিদ্ধান্তে বলা হয়, পরেশ কর্মকারের বিরুদ্ধে উল্লেখ করা কয়েকটি মামলায় সাজা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করেন। বিষয়গুলো বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় নির্বাচন বিজ্ঞপ্তির ৭ নম্বর ধারার আলোকে সমীর চন্দ্র কর্মকারের আবেদনের ভিত্তিতে পরেশ কর্মকারের প্রার্থিতা বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে পরেশ কর্মকারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ খারিজ করা হয়।
অন্যদিকে, পরেশ কর্মকার গত ২৭ আগস্ট চেয়ারম্যান প্রার্থী সমীর কর্মকার ও এক্সিকিউটিভ মেম্বার প্রার্থী সহদেব চন্দ্র কুরীর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ দাখিল করেন। আপীল বোর্ড ১ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে ওই অভিযোগ দুটিও খারিজ করে।
আপীল বোর্ডের সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়, বাজুসের লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার প্রথম নির্বাচন ২০২৪–২০২৬ মেয়াদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে কোনো নির্বাচনসংক্রান্ত প্রমাণপত্র পাওয়া যায়নি। ২০১৯ সালের ৩১ সদস্যের একটি কমিটির তালিকা উপস্থাপন করা হলেও সেটি নির্বাচনসংক্রান্ত বৈধ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে আপীল বোর্ড মত দেয়।
এছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপনের ১৮ ধারার ৩ ও ৪ উপধারার আলোকে সমীর কর্মকার ও সহদেব চন্দ্র কুরী পরপর দুই মেয়াদে নির্বাচিত না হওয়ায় তাঁদের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলে সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়।
ফলে সমীর কর্মকারের চেয়ারম্যান প্রার্থিতা এবং সহদেব চন্দ্র কুরীর এক্সিকিউটিভ মেম্বার প্রার্থিতা বহাল রেখে পরেশ কর্মকারের করা দুটি অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে।
নির্বাচন বোর্ডের প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা এবং আপীল বোর্ডের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা বাজুসের ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন এখন চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে এগিয়ে গেল।

Tag :

লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচনে ২৯ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ

লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচনে ২৯ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ

আপডেট: ০২:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিজয়ের আলো ডেস্ক :
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন বোর্ডের পক্ষ থেকে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় চেয়ারম্যান পদে সমীর চন্দ্র কর্মকার ও পরেশ কর্মকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে অপূর্ব লাল রায় (তপু), ভাইস চেয়ারম্যান পদে রঘুনাথ কর ও জুলাশ কুরী, জেনারেল সেক্রেটারি পদে পলাশ চন্দ্র কুরী এবং সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে লিটন কর্মকার ও অজয় রায় রয়েছেন।
জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিপ্লব দেবনাথ, সবুজ বিশ্বাস ও অমিত নন্দী। ট্রেজারার পদে রয়েছেন হৃদয় পাল।
এছাড়া এক্সিকিউটিভ মেম্বার পদে কনক দত্ত, বিদ্যুৎ চন্দ্র দেবনাথ, দিপ্ত দেবনাথ, প্রান্ত দাস, প্রানজিত চন্দ্র দাস, সহদেব চন্দ্র কুরী, লিটন চন্দ্র দাস, দিপঙ্কর মজুমদার, পলাশ চন্দ্র কর, তপন চন্দ্র সরকার, অনুপ কুমার বায়, কার্তিক দেবনাথ, সুজন চন্দ্র, সুমন দেবনাথ, পিযুষ কর্মকার, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ও সুব চন্দ্র সাহা রয়েছেন।
চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে ২ জন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন, জেনারেল সেক্রেটারি পদে ১ জন, সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে ২ জন, জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে ৩ জন, ট্রেজারার পদে ১ জন এবং এক্সিকিউটিভ মেম্বার পদে ১৭ জন প্রার্থী রয়েছেন।
আপীল বোর্ডে অভিযোগ, দুই পক্ষের আবেদনই খারিজ
নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের মধ্যে দাখিল করা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আপীল বোর্ডও সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আপীল বোর্ডের সিদ্ধান্তে চেয়ারম্যান প্রার্থী সমীর চন্দ্র কর্মকারের করা পরেশ কর্মকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং পরেশ কর্মকারের করা সমীর কর্মকার ও সহদেব চন্দ্র কুরীর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ—সবগুলোই খারিজ করা হয়েছে।
আপীল বোর্ডের নথি অনুযায়ী, সমীর চন্দ্র কর্মকার গত ২৭ আগস্ট পরেশ কর্মকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের ওপর ১ সেপ্টেম্বর বাজুস লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার কার্যালয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আপীল বোর্ড সিদ্ধান্ত দেয়।
আপীল বোর্ডের সিদ্ধান্তে বলা হয়, পরেশ কর্মকারের বিরুদ্ধে উল্লেখ করা কয়েকটি মামলায় সাজা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করেন। বিষয়গুলো বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় নির্বাচন বিজ্ঞপ্তির ৭ নম্বর ধারার আলোকে সমীর চন্দ্র কর্মকারের আবেদনের ভিত্তিতে পরেশ কর্মকারের প্রার্থিতা বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে পরেশ কর্মকারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ খারিজ করা হয়।
অন্যদিকে, পরেশ কর্মকার গত ২৭ আগস্ট চেয়ারম্যান প্রার্থী সমীর কর্মকার ও এক্সিকিউটিভ মেম্বার প্রার্থী সহদেব চন্দ্র কুরীর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ দাখিল করেন। আপীল বোর্ড ১ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে ওই অভিযোগ দুটিও খারিজ করে।
আপীল বোর্ডের সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়, বাজুসের লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার প্রথম নির্বাচন ২০২৪–২০২৬ মেয়াদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে কোনো নির্বাচনসংক্রান্ত প্রমাণপত্র পাওয়া যায়নি। ২০১৯ সালের ৩১ সদস্যের একটি কমিটির তালিকা উপস্থাপন করা হলেও সেটি নির্বাচনসংক্রান্ত বৈধ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে আপীল বোর্ড মত দেয়।
এছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপনের ১৮ ধারার ৩ ও ৪ উপধারার আলোকে সমীর কর্মকার ও সহদেব চন্দ্র কুরী পরপর দুই মেয়াদে নির্বাচিত না হওয়ায় তাঁদের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলে সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়।
ফলে সমীর কর্মকারের চেয়ারম্যান প্রার্থিতা এবং সহদেব চন্দ্র কুরীর এক্সিকিউটিভ মেম্বার প্রার্থিতা বহাল রেখে পরেশ কর্মকারের করা দুটি অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে।
নির্বাচন বোর্ডের প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা এবং আপীল বোর্ডের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা বাজুসের ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন এখন চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিকে এগিয়ে গেল।