০৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচনে সমীর কর্মকারের ১০ দফা ইশতেহার ঘোষণা

  • আপডেট: ১০:০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • 2

Oplus_16908288

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার ২০২৬–২০২৮ দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সমীর কর্মকার তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঘোষিত এ ইশতেহারে তিনি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ, আধুনিক ও ব্যবসায়ীবান্ধব করার লক্ষ্যে ১০ দফা অঙ্গীকার তুলে ধরেছেন।
সমীর কর্মকার তাঁর ইশতেহারের শিরোনাম দিয়েছেন—“বাজুস নিয়ে ভাবনা, ব্যবসায়ীদের প্রতি কমিটমেন্ট”। এতে লক্ষ্মীপুর জেলার জুয়েলার্স ব্যবসায়ী, মহাজন, কারিগর ও সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সংগঠনের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারে সমীর কর্মকার বলেন, বাজুস শুধু একটি ব্যবসায়ী সংগঠন নয়; এটি দেশের স্বর্ণ ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের অধিকার, স্বার্থ, মর্যাদা ও কল্যাণের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম। নির্বাচিত হলে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জেলার সব জুয়েলার্স ব্যবসায়ীকে সঙ্গে নিয়ে সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ, আধুনিক, ব্যবসায়ীবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক বাজুস গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তাঁর ঘোষিত ১০ দফা অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে—জেলা শহরে বাজুসের নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠা, সকল জুয়েলার্স ব্যবসায়ীকে বাজুসের ছায়াতলে আনা, মহাজনী ও বন্ধকী ব্যবসার জন্য যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ এবং লাইসেন্স ও সরকারি অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ।
এছাড়া স্বর্ণালংকার ক্রয়-বিক্রয় পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা ও বিরোধের কার্যকর সমাধান, জেলা মহাজনী কমিটিকে আরও সক্রিয় করা এবং সকল স্বর্ণ কারিগর ও শ্রমিককে নিয়ে “স্বর্ণ শ্রমিক ফেডারেশন” গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইশতেহারে আরও বলা হয়, লক্ষ্মীপুর জেলা শহরে স্বনামধন্য ও বড় ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গোল্ড টেস্টিং ও হলমার্কিং ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কারিগর, মহাজন, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ পরীক্ষার সেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্য রয়েছে।
সংগঠনের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সমীর কর্মকার। নির্ধারিত মাসিক চাঁদা নিয়মিত সংগ্রহ, আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ এবং ত্রৈমাসিক সভায় তা উপস্থাপনের পাশাপাশি অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সদস্যদের সংগঠনের আর্থিক ও গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করার কথা বলা হয়েছে।
সমীর কর্মকার আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বাজুসের গঠনতন্ত্র ও নির্বাচনী বিধিমালা অনুসরণ করে ২০২৮–২০৩০ মেয়াদের নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজন করা হবে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।
ইশতেহারের শেষদিকে বাজুসের সুনাম, ঐতিহ্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ এবং একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও দক্ষ সংগঠন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সমীর কর্মকার।
তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন—“ঐক্যবদ্ধ ব্যবসায়ী সমাজ, স্বচ্ছ সংগঠন, নিরাপদ ব্যবসা, উন্নত সেবা, শক্তিশালী বাজুস।”
সমীর কর্মকার বলেন, একজন চেয়ারম্যান একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারেন না। সংগঠনে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সকল ব্যবসায়ীর ঐক্য, সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে নিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা বাজুসকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক, স্বচ্ছ ও ব্যবসায়ীবান্ধব সংগঠনে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।
শেষে তিনি ব্যবসায়ীদের দোয়া, আশীর্বাদ, ভালোবাসা, সমর্থন ও মূল্যবান ভোট প্রত্যাশা করেন।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচনে সমীর কর্মকারের ১০ দফা ইশতেহার ঘোষণা

লক্ষ্মীপুর বাজুস নির্বাচনে সমীর কর্মকারের ১০ দফা ইশতেহার ঘোষণা

আপডেট: ১০:০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার ২০২৬–২০২৮ দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সমীর কর্মকার তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঘোষিত এ ইশতেহারে তিনি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ, আধুনিক ও ব্যবসায়ীবান্ধব করার লক্ষ্যে ১০ দফা অঙ্গীকার তুলে ধরেছেন।
সমীর কর্মকার তাঁর ইশতেহারের শিরোনাম দিয়েছেন—“বাজুস নিয়ে ভাবনা, ব্যবসায়ীদের প্রতি কমিটমেন্ট”। এতে লক্ষ্মীপুর জেলার জুয়েলার্স ব্যবসায়ী, মহাজন, কারিগর ও সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সংগঠনের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারে সমীর কর্মকার বলেন, বাজুস শুধু একটি ব্যবসায়ী সংগঠন নয়; এটি দেশের স্বর্ণ ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের অধিকার, স্বার্থ, মর্যাদা ও কল্যাণের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম। নির্বাচিত হলে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জেলার সব জুয়েলার্স ব্যবসায়ীকে সঙ্গে নিয়ে সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ, আধুনিক, ব্যবসায়ীবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক বাজুস গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তাঁর ঘোষিত ১০ দফা অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে—জেলা শহরে বাজুসের নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয় প্রতিষ্ঠা, সকল জুয়েলার্স ব্যবসায়ীকে বাজুসের ছায়াতলে আনা, মহাজনী ও বন্ধকী ব্যবসার জন্য যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ এবং লাইসেন্স ও সরকারি অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ।
এছাড়া স্বর্ণালংকার ক্রয়-বিক্রয় পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা ও বিরোধের কার্যকর সমাধান, জেলা মহাজনী কমিটিকে আরও সক্রিয় করা এবং সকল স্বর্ণ কারিগর ও শ্রমিককে নিয়ে “স্বর্ণ শ্রমিক ফেডারেশন” গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইশতেহারে আরও বলা হয়, লক্ষ্মীপুর জেলা শহরে স্বনামধন্য ও বড় ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গোল্ড টেস্টিং ও হলমার্কিং ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কারিগর, মহাজন, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ পরীক্ষার সেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্য রয়েছে।
সংগঠনের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সমীর কর্মকার। নির্ধারিত মাসিক চাঁদা নিয়মিত সংগ্রহ, আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ এবং ত্রৈমাসিক সভায় তা উপস্থাপনের পাশাপাশি অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সদস্যদের সংগঠনের আর্থিক ও গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করার কথা বলা হয়েছে।
সমীর কর্মকার আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বাজুসের গঠনতন্ত্র ও নির্বাচনী বিধিমালা অনুসরণ করে ২০২৮–২০৩০ মেয়াদের নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজন করা হবে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।
ইশতেহারের শেষদিকে বাজুসের সুনাম, ঐতিহ্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ এবং একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও দক্ষ সংগঠন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সমীর কর্মকার।
তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন—“ঐক্যবদ্ধ ব্যবসায়ী সমাজ, স্বচ্ছ সংগঠন, নিরাপদ ব্যবসা, উন্নত সেবা, শক্তিশালী বাজুস।”
সমীর কর্মকার বলেন, একজন চেয়ারম্যান একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারেন না। সংগঠনে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সকল ব্যবসায়ীর ঐক্য, সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে নিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা বাজুসকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক, স্বচ্ছ ও ব্যবসায়ীবান্ধব সংগঠনে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।
শেষে তিনি ব্যবসায়ীদের দোয়া, আশীর্বাদ, ভালোবাসা, সমর্থন ও মূল্যবান ভোট প্রত্যাশা করেন।