০৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

রায়পুরে কিশোর খুনের মামলার আসামির সঙ্গে থানায় পোষা বানর, মানুষের কৌতূহল

  • আপডেট: ০২:০৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • 5

নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কিশোর অটোরিকশাচালক মো. রাজিবকে (১৪) হত্যার মামলার আসামি সোহেল ওরপে গিয়াস উদ্দিন গেসুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার রাতে চাঁদপুর সদরের ওয়্যারলেস এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে সঙ্গে থাকা তার স্ত্রী ও একটি পোষা বানরকেও থানায় নিয়ে আসে থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার গিয়াস উদ্দিন রায়পুরের চর আবাবিল ইউনিয়নের বাসিন্দা। হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে গত শুক্রবার রাতে অটোরিকশা চালক রাজিবকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে নিহত রাজিবের বাবা মো. মোস্তফা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় গিয়াস উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজিবকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন গিয়াস উদ্দিন। তিনি শুক্রবার রাতে রাজিবের অটোরিকশাটি ভাড়া নিয়ে নির্জন স্থানে মাদক সেবন করতে গিয়েছিলেন। সেখানে রাজিবের অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন গিয়াস উদ্দিন। রাজিব তাতে বাধা দিলে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। শনিবার দুপুরে চরআবাবিল ইউপির ক্যাম্পের হাট স্কুলের পশ্চিম পাশের একটি বাগান থেকে রাজিবের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, রাজিবকে হত্যার পর তার লাশ বাগানেই ফেলে রেখে হায়দারগঞ্জ বাজারে নিয়ে গিয়ে অটোরিকশাটি বিক্রির চেষ্টা করেন গিয়াস। তবে সেটি বিক্রি করতে না পারায় পাশের একটি বাড়িতে রেখে পালিয়ে যান।

ওসি বলেন, ‘গিয়াস উদ্দিনের একটি পোষা বানর ছিল। “রাজ” নামের ওই বানরকে নিয়েই ঘটনার পর বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তিনি। তাঁকে সেই পোষা বানরটিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। বানরটি মঙ্গলবার দুপুরে আসামির সঙ্গে জেলা বন বিভাগের অফিসে হস্তান্তর করা হয় এবং আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

রায়পুরের বন কর্মকর্তা চন্দন ভৌমিক বলেন, রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত বানরটিকে থানায় আনার পর সেটি দেখতে কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমায়। থানার ভেতরে ছোটাছুটি করতে থাকে বানরটি। পুলিশ ও আমাদের সদস্যদেরও বানরটিকে সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। পরে আসামির সঙ্গেই বানরটিকে জেলা অফিসে নিয়ে রেখে দিয়ে আসামিকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

রায়পুরে কিশোর খুনের মামলার আসামির সঙ্গে থানায় পোষা বানর, মানুষের কৌতূহল

রায়পুরে কিশোর খুনের মামলার আসামির সঙ্গে থানায় পোষা বানর, মানুষের কৌতূহল

আপডেট: ০২:০৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কিশোর অটোরিকশাচালক মো. রাজিবকে (১৪) হত্যার মামলার আসামি সোহেল ওরপে গিয়াস উদ্দিন গেসুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার রাতে চাঁদপুর সদরের ওয়্যারলেস এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে সঙ্গে থাকা তার স্ত্রী ও একটি পোষা বানরকেও থানায় নিয়ে আসে থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার গিয়াস উদ্দিন রায়পুরের চর আবাবিল ইউনিয়নের বাসিন্দা। হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে গত শুক্রবার রাতে অটোরিকশা চালক রাজিবকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে নিহত রাজিবের বাবা মো. মোস্তফা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় গিয়াস উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজিবকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন গিয়াস উদ্দিন। তিনি শুক্রবার রাতে রাজিবের অটোরিকশাটি ভাড়া নিয়ে নির্জন স্থানে মাদক সেবন করতে গিয়েছিলেন। সেখানে রাজিবের অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন গিয়াস উদ্দিন। রাজিব তাতে বাধা দিলে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। শনিবার দুপুরে চরআবাবিল ইউপির ক্যাম্পের হাট স্কুলের পশ্চিম পাশের একটি বাগান থেকে রাজিবের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, রাজিবকে হত্যার পর তার লাশ বাগানেই ফেলে রেখে হায়দারগঞ্জ বাজারে নিয়ে গিয়ে অটোরিকশাটি বিক্রির চেষ্টা করেন গিয়াস। তবে সেটি বিক্রি করতে না পারায় পাশের একটি বাড়িতে রেখে পালিয়ে যান।

ওসি বলেন, ‘গিয়াস উদ্দিনের একটি পোষা বানর ছিল। “রাজ” নামের ওই বানরকে নিয়েই ঘটনার পর বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তিনি। তাঁকে সেই পোষা বানরটিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। বানরটি মঙ্গলবার দুপুরে আসামির সঙ্গে জেলা বন বিভাগের অফিসে হস্তান্তর করা হয় এবং আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

রায়পুরের বন কর্মকর্তা চন্দন ভৌমিক বলেন, রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত বানরটিকে থানায় আনার পর সেটি দেখতে কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমায়। থানার ভেতরে ছোটাছুটি করতে থাকে বানরটি। পুলিশ ও আমাদের সদস্যদেরও বানরটিকে সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। পরে আসামির সঙ্গেই বানরটিকে জেলা অফিসে নিয়ে রেখে দিয়ে আসামিকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।