নিজস্ব প্রতিবেদক:
সৌদি আরবে কর্মরত কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১নং আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের গোবিন্দেরখিল গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন ও শ্রমিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
সৌদি আরবের জেদ্দা শহরের গুলাইল এলাকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি মঞ্জুর হোসাইন আলভীসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, আবু সাঈদ স্থানীয়ভাবে জনশক্তি সরবরাহের (ম্যানপাওয়ার সাপ্লাই) কাজ করতেন। তার মাধ্যমে একসময় প্রায় ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ বাংলাদেশি শ্রমিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের কারণে অনেক কর্মী তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
এছাড়া বাংলাদেশ থেকে চাকরির সুযোগের আশ্বাস দিয়ে সৌদি আরবে নেওয়া কিছু শ্রমিককে নিয়মিত বেতন, বৈধ কাগজপত্র ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে অনেক শ্রমিক অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, সম্প্রতি সৌদি আরবে অবস্থানরত কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ গ্রহণের পর আবু সাঈদ দেশে ফিরে গেছেন। তাদের ধারণা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শ্রমিকদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এ ঘটনার কারণে অনেক প্রবাসী বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ পরিবারে নিয়মিত অর্থ পাঠাতে পারছেন না, আবার কেউ ঋণের বোঝা নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু সাঈদ ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে বলেন, “আমি দীর্ঘ ৩৬ বছর সৌদি আরবে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে মানুষের সেবা ও উপকার করার চেষ্টা করেছি। কারও কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে বিষয়টি আমাকে জানানো হলে আমি তা দেখব। আমি আবারও সৌদি আরব যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তবে ভুক্তভোগীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের পাওনা অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।









