১১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

৭ কোটি টাকার রাস্তায় খোয়ার বদলে রাবিশ! ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীর হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ

  • আপডেট: ০৪:৫২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • 2

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ৭ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়কের কাজে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সিডিউল অনুযায়ী উন্নতমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও, ঠিকাদার সেখানে ব্যবহার করছেন নিম্নমানের ‘রাবিশ’। খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে এমন অনিয়ম দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে রাস্তা থেকে এসব রাবিশ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মজুপুর এলাকার মাওলানা রেহান উদ্দিন সড়ক থেকে চৌধুরী বাড়ি পর্যন্ত কানেক্টিং সড়কের মেকাডামের কাজ চলছে। এই মেগা উন্নয়ন কাজের প্যাকেজটি দরপত্রের মাধ্যমে পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোস্তফা এন্ড সন্স’। যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির নির্মাণের কাজ করছেন ফিরোজ উদ্দিন নামের এক ঠিকাদার।

অভিযোগ ওঠে, অধিক মুনাফা লাভের আশায় ঠিকাদার ফিরোজ রাস্তার মেকাডামের কাজে সিডিউল মোতাবেক ইটের খোয়া ব্যবহার না করে অত্যন্ত নিম্নমানের রাবিশ (ইট-সুরকির উচ্ছিষ্ট) দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

বিষয়টি জানতে পেরে রোববার (১৯ জুলাই) সরেজমিনে কাজের তদারকি করতে যান লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন। সেখানে গিয়ে তিনি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা পান এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঠিকাদার ফিরোজকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন জানান, রাস্তার কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। ঠিকাদারকে এরই মধ্যে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় বিছানো ওই নিম্নমানের রাবিশ দ্রুত তুলে নিয়ে সিডিউল মোতাবেক উন্নতমানের উপকরণ দিয়ে পুনরায় কাজ করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে, প্রকৌশলীর এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, এতো বড় বাজেটের একটি রাস্তায় এমন নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হলে অল্প দিনেই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যেতো। কর্তৃপক্ষের এমন কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে সরকারি কাজে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

৭ কোটি টাকার রাস্তায় খোয়ার বদলে রাবিশ! ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীর হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ

৭ কোটি টাকার রাস্তায় খোয়ার বদলে রাবিশ! ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীর হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ

আপডেট: ০৪:৫২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ৭ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়কের কাজে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সিডিউল অনুযায়ী উন্নতমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও, ঠিকাদার সেখানে ব্যবহার করছেন নিম্নমানের ‘রাবিশ’। খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে এমন অনিয়ম দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ করে রাস্তা থেকে এসব রাবিশ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মজুপুর এলাকার মাওলানা রেহান উদ্দিন সড়ক থেকে চৌধুরী বাড়ি পর্যন্ত কানেক্টিং সড়কের মেকাডামের কাজ চলছে। এই মেগা উন্নয়ন কাজের প্যাকেজটি দরপত্রের মাধ্যমে পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোস্তফা এন্ড সন্স’। যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির নির্মাণের কাজ করছেন ফিরোজ উদ্দিন নামের এক ঠিকাদার।

অভিযোগ ওঠে, অধিক মুনাফা লাভের আশায় ঠিকাদার ফিরোজ রাস্তার মেকাডামের কাজে সিডিউল মোতাবেক ইটের খোয়া ব্যবহার না করে অত্যন্ত নিম্নমানের রাবিশ (ইট-সুরকির উচ্ছিষ্ট) দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

বিষয়টি জানতে পেরে রোববার (১৯ জুলাই) সরেজমিনে কাজের তদারকি করতে যান লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন। সেখানে গিয়ে তিনি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা পান এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঠিকাদার ফিরোজকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন জানান, রাস্তার কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। ঠিকাদারকে এরই মধ্যে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় বিছানো ওই নিম্নমানের রাবিশ দ্রুত তুলে নিয়ে সিডিউল মোতাবেক উন্নতমানের উপকরণ দিয়ে পুনরায় কাজ করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে, প্রকৌশলীর এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, এতো বড় বাজেটের একটি রাস্তায় এমন নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হলে অল্প দিনেই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যেতো। কর্তৃপক্ষের এমন কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে সরকারি কাজে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।