লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেঘনা রোডের পশ্চিম মাথার ‘রমজান আলী মেম্বার বাড়ি’ সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। সম্পূর্ণ কাঁচা ও মাটির রাস্তা হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই এটি তলিয়ে যায় পানির নিচে। তৈরি হয় হাঁটুসমান কাদা, যা চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার আওতাধীন এলাকা হয়েও এমন অমানবিক জীবনযাপন করছেন স্থানীয় দুই শতাধিক পরিবারের মানুষ।
রোববার (বিকেল ৪টায়) সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে ভুক্তভোগী জনতা এই প্রতিবেদককে পেয়ে তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী জানান, রেকর্ডিও এই রাস্তার আশেপাশে অন্তত ২০০টি বাড়িঘর রয়েছে। কিন্তু মেঘনা রোডের সাথে সংযুক্ত প্রথম মাথা থেকে শেষ মাথা পর্যন্ত এই রাস্তার অনেক জায়গায় কোনো মাটির রাস্তাও অবশিষ্ট নেই! বাধ্য হয়ে অনেক মানুষকে বাড়ি থেকে বের হয়ে ক্ষেতের আইল দিয়ে মূল সড়কে যাতায়াত করতে হয়।
স্থানীয়দের আক্ষেপ, পৌরসভার বাসিন্দা হিসেবে তারা নিয়মিত কর পরিশোধ করে আসলেও ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ হওয়ার পরও রাস্তার দুই পাশে বেশ কিছু সুন্দর ও আধুনিক বাড়িঘর গড়ে উঠেছে। রাস্তাটি মাটি ভরাট, প্যালাসাইডিং ও পাকাকরণ করা হলে এলাকার চিত্র পাল্টে যেত, আরও নতুন নতুন বাড়িঘর গড়ে উঠত এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেত। তাই জনস্বার্থে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার এই হতাশাজনক চিত্রের মাঝেও স্থানীয়দের যাতায়াতের সুবিধার্থে নিজ উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন ১৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুল আলম। বিগত ২-৩ বছর ধরে তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই সড়কে বালু ও ইটের কণা ফেলে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন।
রোববারও তাকে ওই সড়কটি পরিদর্শন করতে এবং সেখানে বালু ও কণা ফেলার কাজ তদারকি করতে দেখা যায়। শুধু এই রাস্তাই নয়; এলাকার রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, পুল-কালভার্টসহ যেকোনো সংকটে ও অসুবিধায় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান তিনি। বিএনপি নেতা নুরুল আলমের এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং তার জন্য দোয়া জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মানুষের এখন একটাই দাবি— দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত রাস্তাটি মাটি ভরাট ও পাকাকরণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।










