০৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

গরমে স্বস্তির পরশ তালের শাঁস, কমলনগরে বিক্রির ধুম

  • আপডেট: ০৯:০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • 36

Oplus_16908288

নিজস্ব প্রতিবেদক,লক্ষ্মীপুর:
প্রচণ্ড দাবদাহে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। অসহনীয় গরম থেকে সামান্য স্বস্তি পেতে মানুষ ছুটছেন বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও প্রাকৃতিক পানীয়ের দিকে। এমন সময় লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে কাঁচা তালের শাঁস। সুস্বাদু ও শীতল প্রকৃতির এই ফলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা জুড়ে এখন তালের শাঁস বিক্রির ধুম পড়েছে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে দেখা মিলছে তালের শাঁস বিক্রেতাদের। কাঁচা তালের শক্ত খোলস কেটে ভেতরের সাদা, নরম ও রসালো শাঁস বের করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। গরমে স্বস্তি খুঁজতে আসা মানুষের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলনগরের মেঘনা তীরবর্তী চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর তালগাছ জন্মে। মৌসুমের শুরুতেই এসব গাছ থেকে কাঁচা তাল সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা। বর্তমানে আকার ও মানভেদে প্রতিটি তাল ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে হাজিরহাট বাজার, ফজুমিয়ার হাট, তোরাবগঞ্জ, চর লরেন্স, করুনানগর ও পাটারীরহাট এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, এসব স্থানে তালের শাঁসের জমজমাট বেচাকেনা চলছে। প্রতিদিন শত শত ক্রেতা তালের শাঁস কিনে খাচ্ছেন কিংবা বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।
হাজিরহাট বাজারে তালের শাঁস কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, প্রচণ্ড গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে তালের শাঁসের বিকল্প নেই। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতেও সহায়ক। কৃত্রিম কোমল পানীয়ের পরিবর্তে ভেজালমুক্ত ও প্রাকৃতিক এই ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয় বিক্রেতারা জানান, মৌসুমজুড়ে তালের শাঁস বিক্রি করে তারা ভালো আয় করছেন। বিশেষ করে বেকার যুবকদের জন্য এটি একটি লাভজনক মৌসুমি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। কম পুঁজিতে শুরু করা এই ব্যবসা অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
প্রচণ্ড গরমের এই সময়ে স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও প্রশান্তির অনন্য সমন্বয় হিসেবে তালের শাঁস এখন কমলনগরের মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে অন্যতম জনপ্রিয় মৌসুমি ফল। ফলে গরম যত বাড়ছে, তালের শাঁসের বাজারও ততই জমে উঠছে।

Tag :

লক্ষ্মীপুরে চন্দ্রগঞ্জ রক্ষাকালী মন্দিরে দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটি গঠন

গরমে স্বস্তির পরশ তালের শাঁস, কমলনগরে বিক্রির ধুম

আপডেট: ০৯:০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,লক্ষ্মীপুর:
প্রচণ্ড দাবদাহে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। অসহনীয় গরম থেকে সামান্য স্বস্তি পেতে মানুষ ছুটছেন বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও প্রাকৃতিক পানীয়ের দিকে। এমন সময় লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে কাঁচা তালের শাঁস। সুস্বাদু ও শীতল প্রকৃতির এই ফলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা জুড়ে এখন তালের শাঁস বিক্রির ধুম পড়েছে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে দেখা মিলছে তালের শাঁস বিক্রেতাদের। কাঁচা তালের শক্ত খোলস কেটে ভেতরের সাদা, নরম ও রসালো শাঁস বের করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। গরমে স্বস্তি খুঁজতে আসা মানুষের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলনগরের মেঘনা তীরবর্তী চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর তালগাছ জন্মে। মৌসুমের শুরুতেই এসব গাছ থেকে কাঁচা তাল সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা। বর্তমানে আকার ও মানভেদে প্রতিটি তাল ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে হাজিরহাট বাজার, ফজুমিয়ার হাট, তোরাবগঞ্জ, চর লরেন্স, করুনানগর ও পাটারীরহাট এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, এসব স্থানে তালের শাঁসের জমজমাট বেচাকেনা চলছে। প্রতিদিন শত শত ক্রেতা তালের শাঁস কিনে খাচ্ছেন কিংবা বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।
হাজিরহাট বাজারে তালের শাঁস কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, প্রচণ্ড গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে তালের শাঁসের বিকল্প নেই। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতেও সহায়ক। কৃত্রিম কোমল পানীয়ের পরিবর্তে ভেজালমুক্ত ও প্রাকৃতিক এই ফলের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয় বিক্রেতারা জানান, মৌসুমজুড়ে তালের শাঁস বিক্রি করে তারা ভালো আয় করছেন। বিশেষ করে বেকার যুবকদের জন্য এটি একটি লাভজনক মৌসুমি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। কম পুঁজিতে শুরু করা এই ব্যবসা অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
প্রচণ্ড গরমের এই সময়ে স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও প্রশান্তির অনন্য সমন্বয় হিসেবে তালের শাঁস এখন কমলনগরের মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে অন্যতম জনপ্রিয় মৌসুমি ফল। ফলে গরম যত বাড়ছে, তালের শাঁসের বাজারও ততই জমে উঠছে।