নিজস্ব প্রতিবেদন :বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদের আভা। সবুজ পাতার ওপর উঁকি দিচ্ছে হাসজ্জ্বল সূর্যমুখী। বাতাসের দোলায় দুলছে সেই ফুল, আর সেই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা দেখছেন ফসলের আদ্যোপান্ত। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরআবাবিল ইউনিয়নের হাওলাদার স্টেশন ও চরপক্ষী এলাকায় এখন এমনই এক নান্দনিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, কয়েক বছর ধরে স্থানীয় কৃষকেরা ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে সূর্যমুখীর চাষ করছেন। দিন দিন এর জনপ্রিয়তা ও বীজের চাহিদা বাড়ছে। চলতি বছর এই উপজেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রায়পুর শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে রায়পুর-হায়দরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে কৃষক নুর মিয়ার সূর্যমুখী বাগান। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, কে যেন বিশাল এলাকাজুড়ে হলদে গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসছেন বিনোদনপ্রেমীরা।
শনিবার দুপুরে সপরিবারে সূর্যমুখী খেত দেখতে আসা গৃহিণী খুশবু আক্তার বলেন, ‘মেঘনার পাড় ছাড়া রায়পুরে ভালো কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই। তাই খোলা পরিবেশে সময় কাটাতে এখানে এসেছি। মাঠভরা ফুল দেখে বাচ্চারা খুব আনন্দ পেয়েছে।’ স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক মাইনুদ্দিন বলেন, ‘একসঙ্গে এত সূর্যমুখী ফুল আগে কখনো দেখিনি। দেখে মন জুড়িয়ে গেল।’
তবে কেবল সৌন্দর্য নয়, সূর্যমুখী এখন স্থানীয় কৃষকদের আয়ের অন্যতম উৎস। চরপক্ষী এলাকার কৃষক আবদুল্লাহ জানান, আগে এই সময়ে জমি পতিত পড়ে থাকত। কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার সূর্যমুখী চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘খরচ কম কিন্তু লাভ ভালো। নিজের খেতের বীজ থেকে তেল উৎপাদন করে ব্যবহার করছি, এতে বাজারের তেলের ওপর নির্ভরতা কমেছে এবং অনেক টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।’
আরেক কৃষক আবির হোসেন আশা করছেন, প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৭ মণ বীজ পাওয়া যাবে। দাম ভালো পেলে আগামী বছর চাষের পরিধি আরও বাড়াবেন তিনি। তবে বাজারজাতকরণ নিয়ে কিছুটা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন কৃষক মানিক। তিনি বলেন, ফলন ভালো হলেও অনেক সময় পাইকাররা সিন্ডিকেট করে কম দাম দিতে চায়। বিক্রির সঠিক বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে কৃষকেরা আরও বেশি লাভবান হবেন।
রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলায় ৫৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ হেক্টরে। এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ৩৫ হেক্টর।’
তিনি আরও জানান, রায়পুরের মাটি সূর্যমুখী চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের বীজ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ ও তেল আহরণ পর্যন্ত সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে রায়পুরকে সূর্যমুখী উৎপাদনের একটি ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।


















