১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫

কমলনগরে মাদরাসার জমি নিয়ে প্রিন্সিপালের ছলচাতুরী!

  • আপডেট: ০৫:৩২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
  • 58

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসার মালিকানাধীন ৮০ শতাংশ জমি নিয়ে চল-চাতুরীর অভিযোগ উঠেছে ওই মাদরাসার প্রিন্সিপাল দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। জমির মালিক মাদরাসা হলেও দেলোয়ার হোসেনের ইন্ধনে শুধুমাত্র স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ওই জমিটি একাধিকবার বেশ কয়েকজনের কাছে বায়না চুক্তি করা হয়েছে। এতে আর্থিক লাভবান হয়েছেন তিনি। সর্বশেষ ওই জমির একটি অংশ ভরাট করে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। নির্মাণ কাজটি তৃতীয় পক্ষ করলেও প্রিন্সিপাল দেলোয়ার ওই কাজ মাদরাসার হিসেবে দাবি করেছেন।

যদিও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে তার দাবির সতত্যা পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমিটি দফায় দফায় একাধিক ব্যক্তির হাত বদল হয়েছে। স্টাম্পে বায়না চুক্তি করে টাকা পরিশোধ করে তারা ভোগদখল করে আসছেন৷ জমি ক্রয় করার জন্য আবদুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি ২০২০ সালে দুই দফায় ৮ লাখ টাকার পরিশোধ করেন আরেক বায়নাকারক মোহাম্মদ সুলতান আহম্মেদ টিপু সাথে৷ তার দখলে থাকা ওই জমি থেকে তাকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করে এখন তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রথমে বিক্রির পাঁয়তারা করছেন মাদরাসার প্রিন্সিপাল।

কিন্তু মাদরাসার জমি বিক্রির অনুমোদন না থাকায় ওই জমি লীজের নামে আরেক পক্ষকে দিয়ে দিচ্ছেন তিনি। এতে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ২৪ শতাংশ জমি বায়নাসূত্রে রেজিস্টি সহায়তা পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর কাছে আবেদন করেন ভূক্তভোগি আবদুর রাজ্জাক।

জানা গেছে, উপজেলার তোরাবগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত চরলরেঞ্চ মৌজার সাবেক ১৩৪৮ নং খতিয়ানের ১১৯১৯ দাগ, যা দিয়ারা ৫৫০ নং খতিয়ানের ৩২২ নং দাগের, বর্তমান আরএস ৩০/১ নং খতিয়ানের ৫৪৪ নং দাগের ৮০ শতাংশ জমির মালিক হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসা।

২০০৩ সালে ওই জমি আজাদ নামে এক ব্যক্তির কাছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বিক্রি করে দেয়। তিন লাখ টাকা জমির মূল্য নির্ধারণ হলেও দলিলে মাত্র ৭০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়। তবে জমির পাশ্ববর্তী একজন প্রিয়েমশন মামলা দায়ের করায় কৌশল খাটিয়ে জমিটি মাদরাসার নামে ফেরত দেয় আজাদ। পরে আদালতের রায়ে জমিটি মাদরাসার নামে মালিকানা হয়।

আদালতে যে মামলা চলমান ছিল, ওই মামলা শুরুতে পরিচালনা করতেন আজাদ। মৌখিক চুক্তি ছিল জমিটি মাদরাসার নামে রায় হলে কর্তৃপক্ষ পুনরায় ওই জমি আজাদের নামে হস্তান্তর করবেন। ২০১৮ সালে আদালত ওই জমি মাদরাসার পক্ষে রায় দেয়।

এদিকে ২০২০ সালের আজাদ হোসেন, মোহাম্মদ শহাজাহান ও আলমগীর হোসেন মিলে তোরাবগঞ্জ এলাকার মৃত মৌলভী লুৎফর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ সুলতান আহমদ টিপু কাছে জমিটির মূল্য ২৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে বায়না চুক্তি করেন। ওই চুক্তিতে প্রথম স্বাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন সে সময়ে মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্বে থাকা মো. দেলোয়ার হোসেন। আবদুর রাজ্জাকও ওই বায়না চুক্তির ৪ নম্বর সাক্ষী ছিলেন৷ এরপর ওই বায়নাচুক্তির সূত্র ধরে ৮০ শতাংশ জমি থেকে ২৪ শতাংশ জমি ক্রয়ের আগ্রহে সাড়ে ১২ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে সুলতান আহম্মেদ টিপুর সাথে বায়নাচুক্তি করে আবদুর রাজ্জাক। প্রথম বায়না চুক্তিতে ৬ লাখ ও দ্বিতীয় চুক্তিতে ২ লাখ টাকা পরিশোধ করে। বাকি টাকা জমির দলিল রেজিস্টির সময় পরিশোধের কথা ছিল। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ গ্রহীতা টিপুকে ওই জমি রেজিস্টি দিবে, এমন শর্তে টিপু বিক্রির উদ্দ্যেশ্যে আরও কয়েকজনের কাছে ওই জমি বায়না চুক্তি করেন। বায়না এবং মূল্য পরিশোধ করেই জমিতে দখলে যান তারা।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকা এবং মাদরাসার জমি হস্তান্তর বা বিক্রিতে নানা জটিলতা থাকায় সুলতান আহম্মেদ টিপুর নামে ওই জমি হস্তান্তর করতে পারেনি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। মোটা অংকে অন্যত্র বিক্রির চেষ্টা করেছেন প্রিন্সিপাল দেলোয়ার ও টিপু। কিন্তু বর্থ হয়ে ওই জমি অন্য আরেকটি পক্ষের নামে নামমাত্র লীজ দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, এ ক্ষেত্রে প্রিন্সিপাল মোটা অংকের আর্থিক লাভবান হয়েছেন৷ মূলত তার আর্থিক লোভেই জমিটি লীজের নামে অন্য পক্ষকে দখলে দিচ্ছেন।

যদিও জমি বিক্রি বা লীজের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রিন্সিপাল দেলোয়ার হোসেন দাবি করেছেন, ওই জমিতে মাদরাসার পক্ষ থেকে নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয় লোকজন ও বায়নাকৃত টিপুর সাথে কথা বলে এর সত্যতা মিলেনি।

সুলতান আহম্মেদ টিপু স্বয়ং বলেছেন, ২৫ লাখ টাকা দিয়ে তিনি জমিটি বায়না করেছেন। কিন্তু মাদরাসার নামে জমি রায় হওয়ায় আইনী জটিলতা দেখিয়ে সেটি তার নামে রেজিস্টি দেওয়া হয়নি। তাই অন্য যাদের সাথে তিনি বায়না চুক্তি করেছেন, তাদেরকেও জমি রেজিস্টি দেওয়া সম্ভব হয়নি৷

২৪ শতাংশ বায়না চুক্তিকরা ভুক্তভোগী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ২০২০ সালে সাড়ে ১২ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ২ দফা ৮ লাখ টাকা টিপুকে পরিশোধ করেছি। তখন জমিটি আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। নীচু জমিতে মাটি ফেলে ভরাট করে সেখানে গাছপালা রোপন করি। এতে আরও ৪ লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। টিপুর সাথে আজাদগংদের বায়নাচুক্তিতে মাদরাসার প্রিন্সিপাল দেলোয়ার হোসেনের সাক্ষর থাকায় আমি নিজেও বায়না চুক্তি করতে আগ্রহবোধ করি। কিন্তু ওই জমি রেজিষ্ট্রেশন না দিয়ে এখন উল্টো ওই জমি থেকে আমাকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। আমার রোপনকৃত গাছপালা কেটে সেখানে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। বিক্রি বা লীজের নামে অন্য পক্ষকে জমিটি দখল দেওয়া হচ্ছে। আমি সুবিচার চাই।

বায়নাকারক মোহাম্মদ সুলতান আহম্মেদ টিপু বলেন, আবদুর রাজ্জাকের সাথে ২৪ শতাংশ জমি বায়না চুক্তি করি। মাদরাসা আমার নামে জমি হস্তান্তর করতে না পারায় তাকেও রেজিষ্ট্রি দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাই তাকে বলেছি টাকা ফেরত নিতে। কিন্তু সে এতে রাজি হচ্ছে না৷

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার প্রিন্সিপাল দেলোয়ার হোসেন বলেন, আদালতের রায়ে জমির মালিক মাদরাসা। ওই জমি বিক্রির সুযোগ নেই৷ জমিটি বেশ কয়েকজনের সাথে আজাদগং এবং টিপুর বায়না চুক্তির বিষয়টি প্রথমে তিনি অস্বীকার করলে বায়না চুক্তিতে স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বায়না চুক্তিতে আমার সাক্ষর থাকতেই পারে।

Tag :

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মাঝে ইউনিফর্ম বিতরণ

কমলনগরে মাদরাসার জমি নিয়ে প্রিন্সিপালের ছলচাতুরী!

আপডেট: ০৫:৩২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসার মালিকানাধীন ৮০ শতাংশ জমি নিয়ে চল-চাতুরীর অভিযোগ উঠেছে ওই মাদরাসার প্রিন্সিপাল দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। জমির মালিক মাদরাসা হলেও দেলোয়ার হোসেনের ইন্ধনে শুধুমাত্র স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ওই জমিটি একাধিকবার বেশ কয়েকজনের কাছে বায়না চুক্তি করা হয়েছে। এতে আর্থিক লাভবান হয়েছেন তিনি। সর্বশেষ ওই জমির একটি অংশ ভরাট করে নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। নির্মাণ কাজটি তৃতীয় পক্ষ করলেও প্রিন্সিপাল দেলোয়ার ওই কাজ মাদরাসার হিসেবে দাবি করেছেন।

যদিও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে তার দাবির সতত্যা পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমিটি দফায় দফায় একাধিক ব্যক্তির হাত বদল হয়েছে। স্টাম্পে বায়না চুক্তি করে টাকা পরিশোধ করে তারা ভোগদখল করে আসছেন৷ জমি ক্রয় করার জন্য আবদুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি ২০২০ সালে দুই দফায় ৮ লাখ টাকার পরিশোধ করেন আরেক বায়নাকারক মোহাম্মদ সুলতান আহম্মেদ টিপু সাথে৷ তার দখলে থাকা ওই জমি থেকে তাকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করে এখন তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রথমে বিক্রির পাঁয়তারা করছেন মাদরাসার প্রিন্সিপাল।

কিন্তু মাদরাসার জমি বিক্রির অনুমোদন না থাকায় ওই জমি লীজের নামে আরেক পক্ষকে দিয়ে দিচ্ছেন তিনি। এতে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ২৪ শতাংশ জমি বায়নাসূত্রে রেজিস্টি সহায়তা পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর কাছে আবেদন করেন ভূক্তভোগি আবদুর রাজ্জাক।

জানা গেছে, উপজেলার তোরাবগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত চরলরেঞ্চ মৌজার সাবেক ১৩৪৮ নং খতিয়ানের ১১৯১৯ দাগ, যা দিয়ারা ৫৫০ নং খতিয়ানের ৩২২ নং দাগের, বর্তমান আরএস ৩০/১ নং খতিয়ানের ৫৪৪ নং দাগের ৮০ শতাংশ জমির মালিক হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসা।

২০০৩ সালে ওই জমি আজাদ নামে এক ব্যক্তির কাছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বিক্রি করে দেয়। তিন লাখ টাকা জমির মূল্য নির্ধারণ হলেও দলিলে মাত্র ৭০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়। তবে জমির পাশ্ববর্তী একজন প্রিয়েমশন মামলা দায়ের করায় কৌশল খাটিয়ে জমিটি মাদরাসার নামে ফেরত দেয় আজাদ। পরে আদালতের রায়ে জমিটি মাদরাসার নামে মালিকানা হয়।

আদালতে যে মামলা চলমান ছিল, ওই মামলা শুরুতে পরিচালনা করতেন আজাদ। মৌখিক চুক্তি ছিল জমিটি মাদরাসার নামে রায় হলে কর্তৃপক্ষ পুনরায় ওই জমি আজাদের নামে হস্তান্তর করবেন। ২০১৮ সালে আদালত ওই জমি মাদরাসার পক্ষে রায় দেয়।

এদিকে ২০২০ সালের আজাদ হোসেন, মোহাম্মদ শহাজাহান ও আলমগীর হোসেন মিলে তোরাবগঞ্জ এলাকার মৃত মৌলভী লুৎফর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ সুলতান আহমদ টিপু কাছে জমিটির মূল্য ২৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে বায়না চুক্তি করেন। ওই চুক্তিতে প্রথম স্বাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন সে সময়ে মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্বে থাকা মো. দেলোয়ার হোসেন। আবদুর রাজ্জাকও ওই বায়না চুক্তির ৪ নম্বর সাক্ষী ছিলেন৷ এরপর ওই বায়নাচুক্তির সূত্র ধরে ৮০ শতাংশ জমি থেকে ২৪ শতাংশ জমি ক্রয়ের আগ্রহে সাড়ে ১২ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে সুলতান আহম্মেদ টিপুর সাথে বায়নাচুক্তি করে আবদুর রাজ্জাক। প্রথম বায়না চুক্তিতে ৬ লাখ ও দ্বিতীয় চুক্তিতে ২ লাখ টাকা পরিশোধ করে। বাকি টাকা জমির দলিল রেজিস্টির সময় পরিশোধের কথা ছিল। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ গ্রহীতা টিপুকে ওই জমি রেজিস্টি দিবে, এমন শর্তে টিপু বিক্রির উদ্দ্যেশ্যে আরও কয়েকজনের কাছে ওই জমি বায়না চুক্তি করেন। বায়না এবং মূল্য পরিশোধ করেই জমিতে দখলে যান তারা।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকা এবং মাদরাসার জমি হস্তান্তর বা বিক্রিতে নানা জটিলতা থাকায় সুলতান আহম্মেদ টিপুর নামে ওই জমি হস্তান্তর করতে পারেনি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। মোটা অংকে অন্যত্র বিক্রির চেষ্টা করেছেন প্রিন্সিপাল দেলোয়ার ও টিপু। কিন্তু বর্থ হয়ে ওই জমি অন্য আরেকটি পক্ষের নামে নামমাত্র লীজ দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, এ ক্ষেত্রে প্রিন্সিপাল মোটা অংকের আর্থিক লাভবান হয়েছেন৷ মূলত তার আর্থিক লোভেই জমিটি লীজের নামে অন্য পক্ষকে দখলে দিচ্ছেন।

যদিও জমি বিক্রি বা লীজের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রিন্সিপাল দেলোয়ার হোসেন দাবি করেছেন, ওই জমিতে মাদরাসার পক্ষ থেকে নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয় লোকজন ও বায়নাকৃত টিপুর সাথে কথা বলে এর সত্যতা মিলেনি।

সুলতান আহম্মেদ টিপু স্বয়ং বলেছেন, ২৫ লাখ টাকা দিয়ে তিনি জমিটি বায়না করেছেন। কিন্তু মাদরাসার নামে জমি রায় হওয়ায় আইনী জটিলতা দেখিয়ে সেটি তার নামে রেজিস্টি দেওয়া হয়নি। তাই অন্য যাদের সাথে তিনি বায়না চুক্তি করেছেন, তাদেরকেও জমি রেজিস্টি দেওয়া সম্ভব হয়নি৷

২৪ শতাংশ বায়না চুক্তিকরা ভুক্তভোগী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ২০২০ সালে সাড়ে ১২ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ২ দফা ৮ লাখ টাকা টিপুকে পরিশোধ করেছি। তখন জমিটি আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। নীচু জমিতে মাটি ফেলে ভরাট করে সেখানে গাছপালা রোপন করি। এতে আরও ৪ লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। টিপুর সাথে আজাদগংদের বায়নাচুক্তিতে মাদরাসার প্রিন্সিপাল দেলোয়ার হোসেনের সাক্ষর থাকায় আমি নিজেও বায়না চুক্তি করতে আগ্রহবোধ করি। কিন্তু ওই জমি রেজিষ্ট্রেশন না দিয়ে এখন উল্টো ওই জমি থেকে আমাকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। আমার রোপনকৃত গাছপালা কেটে সেখানে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। বিক্রি বা লীজের নামে অন্য পক্ষকে জমিটি দখল দেওয়া হচ্ছে। আমি সুবিচার চাই।

বায়নাকারক মোহাম্মদ সুলতান আহম্মেদ টিপু বলেন, আবদুর রাজ্জাকের সাথে ২৪ শতাংশ জমি বায়না চুক্তি করি। মাদরাসা আমার নামে জমি হস্তান্তর করতে না পারায় তাকেও রেজিষ্ট্রি দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাই তাকে বলেছি টাকা ফেরত নিতে। কিন্তু সে এতে রাজি হচ্ছে না৷

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার প্রিন্সিপাল দেলোয়ার হোসেন বলেন, আদালতের রায়ে জমির মালিক মাদরাসা। ওই জমি বিক্রির সুযোগ নেই৷ জমিটি বেশ কয়েকজনের সাথে আজাদগং এবং টিপুর বায়না চুক্তির বিষয়টি প্রথমে তিনি অস্বীকার করলে বায়না চুক্তিতে স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বায়না চুক্তিতে আমার সাক্ষর থাকতেই পারে।