১১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে জামায়াত এর মৃত্যু ইস্যু নিয়ে বিএনপির বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর দাবী করছে জামায়াত

  • আপডেট: ০৮:৩৭:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫
  • 63

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরে কাউছার আহম্মদ মিলন (৬০) নামে এক জামায়াত নেতার হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত এবং বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

ঘটনাটি নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দেওয়া বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে দাবী করছে জামায়াতের নেতারা।

জামায়াত নেতা মিলন হত্যার প্রতিবাদে এবং খুনীদের গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়ে মঙ্গলবার (১০ জুন) বেলা ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা জামায়াত।

এদিকে হত্যা মামলার স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিএনপি। সামাজিক অবক্ষয়ের ঘটনাকে রাজনৈতিক ঘটনায় রূপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবী দলটির।

তবে জামায়াত বলছে- প্রকৃত খুনি এবং সন্ত্রাসীদের হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে জামায়াতের অবস্থান, কোন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়।

সোমবার (৯ জুন) সকালে ওই ঘটনা নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ বিএনপি শীর্ষ নেতারা জামায়াত নেতার মৃত্যুর বিষয়টিকে স্বাভাবিক মৃত্যু দাবী করে বক্তব্য দেন। জামায়াতের নেতারা বিএনপির কোন কথা রাখেননি বলে মন্তব্য করা হয়৷

এ্যানি এবং বিএনপি নেতাদের দেওয়া বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর এবং চিহ্নিত খুনিদের পক্ষাবলম্বন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে জামায়াতের নেতারা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছে’- বিএনপির এমন দাবীর প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াত বলছে- সন্ত্রাসীরা তাদের হাতে থাকা লোহার রড, জিআই পাইপ, লাঠিসোটা দিয়ে কাউছার আহম্মদ মিলন ও তার ছেলে এবং ভাইকে পৈশাচিক কায়দায় মারাত্মকভাবে আহত করার পর দলের ও দলীয় নেতাদের নামে শ্লোগান দিয়ে মিছিল করে উল্লাস করার মধ্য দিয়ে তারা নিজেরাই রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নেতারা আরও বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন মসজিদের ইমামকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। খুনীদের বিচার না হলে সমাজে খুন রাহাজানি বেড়েই যাবে। কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রকৃত খুনীদের সঠিক বিচার হোক। খুনীদের পরিচয় খুনীই। কোন খুনীকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় প্রদান করা হলে ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারী ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, নায়েবে আমীর এআর হাফিজ উল্যা, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মু. ফারুক হোসাইন নুরনবী, সহকারি সেক্রেটারী মাওলানা নাছির উদ্দিন ও এড. মহসিন কবির মুরাদ, পৌর আমীর এড. আবুল ফারাহ নিশান, চন্দ্রগঞ্জ থানা আমীর নুর মোহাম্মদ রাসেল প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৫ জুন) দুপুরে জামায়াত নেতা কাউছার হামলার শিকার হন। এদিন সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। রাতে পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়৷ পরদিন শুক্রবার দুপুরে মৃতদেহের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। রোববার (৮ জুন) রাতে নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মো. রিয়াজ হোসেন ও মো. সোহাগ হোসেনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন।

কাউছার হোসেন মিলন সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজিবপুর গ্রামের মৃত মমিন উল্যার ছেলে ও বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়ন জামায়াতের ওলামা বিভাগের ওয়ার্ড সভাপতি। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন। হামলায় অভিযুক্তরা একই এলাকার বাসিন্দা ও বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থক।

Tag :

ভোলাকোট ইউনিয়নে হাতপাখা প্রার্থী জাকির পাটওয়ারীর নির্বাচনী প্রচারণা

লক্ষ্মীপুরে জামায়াত এর মৃত্যু ইস্যু নিয়ে বিএনপির বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর দাবী করছে জামায়াত

আপডেট: ০৮:৩৭:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরে কাউছার আহম্মদ মিলন (৬০) নামে এক জামায়াত নেতার হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত এবং বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন এবং বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

ঘটনাটি নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দেওয়া বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে দাবী করছে জামায়াতের নেতারা।

জামায়াত নেতা মিলন হত্যার প্রতিবাদে এবং খুনীদের গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়ে মঙ্গলবার (১০ জুন) বেলা ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা জামায়াত।

এদিকে হত্যা মামলার স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিএনপি। সামাজিক অবক্ষয়ের ঘটনাকে রাজনৈতিক ঘটনায় রূপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবী দলটির।

তবে জামায়াত বলছে- প্রকৃত খুনি এবং সন্ত্রাসীদের হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে জামায়াতের অবস্থান, কোন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়।

সোমবার (৯ জুন) সকালে ওই ঘটনা নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ বিএনপি শীর্ষ নেতারা জামায়াত নেতার মৃত্যুর বিষয়টিকে স্বাভাবিক মৃত্যু দাবী করে বক্তব্য দেন। জামায়াতের নেতারা বিএনপির কোন কথা রাখেননি বলে মন্তব্য করা হয়৷

এ্যানি এবং বিএনপি নেতাদের দেওয়া বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর এবং চিহ্নিত খুনিদের পক্ষাবলম্বন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে জামায়াতের নেতারা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছে’- বিএনপির এমন দাবীর প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াত বলছে- সন্ত্রাসীরা তাদের হাতে থাকা লোহার রড, জিআই পাইপ, লাঠিসোটা দিয়ে কাউছার আহম্মদ মিলন ও তার ছেলে এবং ভাইকে পৈশাচিক কায়দায় মারাত্মকভাবে আহত করার পর দলের ও দলীয় নেতাদের নামে শ্লোগান দিয়ে মিছিল করে উল্লাস করার মধ্য দিয়ে তারা নিজেরাই রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নেতারা আরও বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন মসজিদের ইমামকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। খুনীদের বিচার না হলে সমাজে খুন রাহাজানি বেড়েই যাবে। কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রকৃত খুনীদের সঠিক বিচার হোক। খুনীদের পরিচয় খুনীই। কোন খুনীকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় প্রদান করা হলে ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারী ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, নায়েবে আমীর এআর হাফিজ উল্যা, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মু. ফারুক হোসাইন নুরনবী, সহকারি সেক্রেটারী মাওলানা নাছির উদ্দিন ও এড. মহসিন কবির মুরাদ, পৌর আমীর এড. আবুল ফারাহ নিশান, চন্দ্রগঞ্জ থানা আমীর নুর মোহাম্মদ রাসেল প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৫ জুন) দুপুরে জামায়াত নেতা কাউছার হামলার শিকার হন। এদিন সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। রাতে পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়৷ পরদিন শুক্রবার দুপুরে মৃতদেহের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। রোববার (৮ জুন) রাতে নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মো. রিয়াজ হোসেন ও মো. সোহাগ হোসেনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন।

কাউছার হোসেন মিলন সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজিবপুর গ্রামের মৃত মমিন উল্যার ছেলে ও বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়ন জামায়াতের ওলামা বিভাগের ওয়ার্ড সভাপতি। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন। হামলায় অভিযুক্তরা একই এলাকার বাসিন্দা ও বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থক।