০৬:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসা ছাত্রের রহস্যময় মৃত্যু, পরিবারের দাবী হত্যা, অভিযুক্ত শিক্ষক আটক

  • আপডেট: ০৩:৫২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
  • 70

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরে পৌর শহরের আল-মুঈন ইসলামী একাডেমীর হেফজ বিভাগের সানিম হোসাইন (১০) নামের এক আবাসিক ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ মাদ্রাসার টয়লেটে ঝুঁলিয়ে রাখা হয়েছে। আর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছেন, রাগ অভিমানের বশত ওয়াশ রুমে গিয়ে গলায় গামছা পেছিয়ে ও আত্মহত্যা করেছে সানিম। এদিকে এঘটনায় মাহমুদুর রহমান নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার ওই মাদ্রাসায় থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সানিম রায়পুর উপজেলার চরবংশী ইউনিয়নের কুচিয়ামারা গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির ও জয়নবী বেগমের সন্তান।
মাদ্রাসার সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে শিশু সানিম ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে ভর্তি হয়। আজ সকালে পড়া না পারায় শিক্ষক মাহমুদুর রহমান সানিমকে বেত্রাঘাত করে। পরে দুপুরে জোহরের নামাজ শেষে সামির খাবার খেতে না গিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় পরও বের হচ্ছিলো না। এসময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা খাবার স্থলে সানিমকে দেখতে না পেয়ে খোঁজা খুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে দেখতে পায় গলায় গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে আছে সানিমের মরদেহ। পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মরদেহটি নামিয়ে আনে। এসময় নিহতের পরিবার ও পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতলের মর্গে পাঠায়।
তবে পরিবারের দাবী, ছাত্র সানিমকে নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ টয়লেট ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এঘটনায় হত্যার বিচারের দাবী করেন তারা।

মাদ্রাসা সুপুার মাওলানা বশির উদ্দিন জানান, ছাত্র সানিম নিজে আত্মহত্যা করেছে। তাকে কোন প্রকার নির্যাতন করা হয়নি।

লক্ষ্মীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রেজাউল হক জানান, শিক্ষকরা শিশুটি আত্মহত্যা করেছে মর্মে দাবী করলেও শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

ভোলাকোট ইউনিয়নে হাতপাখা প্রার্থী জাকির পাটওয়ারীর নির্বাচনী প্রচারণা

লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসা ছাত্রের রহস্যময় মৃত্যু, পরিবারের দাবী হত্যা, অভিযুক্ত শিক্ষক আটক

আপডেট: ০৩:৫২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরে পৌর শহরের আল-মুঈন ইসলামী একাডেমীর হেফজ বিভাগের সানিম হোসাইন (১০) নামের এক আবাসিক ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ মাদ্রাসার টয়লেটে ঝুঁলিয়ে রাখা হয়েছে। আর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছেন, রাগ অভিমানের বশত ওয়াশ রুমে গিয়ে গলায় গামছা পেছিয়ে ও আত্মহত্যা করেছে সানিম। এদিকে এঘটনায় মাহমুদুর রহমান নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার ওই মাদ্রাসায় থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সানিম রায়পুর উপজেলার চরবংশী ইউনিয়নের কুচিয়ামারা গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির ও জয়নবী বেগমের সন্তান।
মাদ্রাসার সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে শিশু সানিম ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে ভর্তি হয়। আজ সকালে পড়া না পারায় শিক্ষক মাহমুদুর রহমান সানিমকে বেত্রাঘাত করে। পরে দুপুরে জোহরের নামাজ শেষে সামির খাবার খেতে না গিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় পরও বের হচ্ছিলো না। এসময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা খাবার স্থলে সানিমকে দেখতে না পেয়ে খোঁজা খুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে দেখতে পায় গলায় গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে আছে সানিমের মরদেহ। পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মরদেহটি নামিয়ে আনে। এসময় নিহতের পরিবার ও পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতলের মর্গে পাঠায়।
তবে পরিবারের দাবী, ছাত্র সানিমকে নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ টয়লেট ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এঘটনায় হত্যার বিচারের দাবী করেন তারা।

মাদ্রাসা সুপুার মাওলানা বশির উদ্দিন জানান, ছাত্র সানিম নিজে আত্মহত্যা করেছে। তাকে কোন প্রকার নির্যাতন করা হয়নি।

লক্ষ্মীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রেজাউল হক জানান, শিক্ষকরা শিশুটি আত্মহত্যা করেছে মর্মে দাবী করলেও শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।